আমেরিকা যুদ্ধে কেন হারে না?
কেন তাদের দেশে মৃত্যুর মিছিল নেই?
কেন তাদের দেশের নাগরিকেরা নিরাপদ?
কেন তারা বিশ্ব মোড়ল উপাধি পেল?
(ঠান্ডা মাথায় একবার পড়ুন)
নিকট অতীতের যুদ্ধের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায় আমেরিকা যুদ্ধে হারে না। কারণ তাদের কৌশলের কাছে হেরে যায় একেকটি দেশ, একেকটি জনপদ। আসুন, তাদের যুদ্ধকৌশলটা একটু খতিয়ে দেখা যাক।
প্রথমতঃ আমেরিকা যুদ্ধ করে তাদের মূল ভূখণ্ড থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে গিয়ে। যেখানে তাদের দেশে যুদ্ধের কোন আঁচেই লাগে না। আমেরিকার ভূখণ্ডে থাকা নাগরিক একটা মার্কিনীও মারা পড়ে না। তাদের পেন্টাগন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো অক্ষত থাকে এবং এখনো আছে।
২০০৩ সালে শুরু হওয়া ইরাক-মার্কিন যুদ্ধের কথাই ধরা যাক। মার্কিনরা যুদ্ধ করতে এসেছিল তাদের ভূখণ্ড থেকে ১১,০০০ কিলোমিটার দূরে। যুদ্ধক্ষেত্রটি ছিল প্রাচীন মেসোপোটেমিয়া সভ্যতার তীর্থভূমি ইরাক। যুদ্ধে ইরাকের প্রাণহানি কম করে হলেও সাড়ে ৪ লাখ। আর আমেরিকার মাত্র ৪৫০০ সৈন্য। আর ইরাকে যে ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, তা দেখেছে গোটা বিশ্ব। এমনকি দেদার লুট হয়েছে বাগদাদ জাদুঘরে থাকা বহু প্রাচীন নিদর্শন। এই যুদ্ধে আমেরিকার চুড়ান্ত বিজয় তো হয়েছেই, মধ্যপ্রাচ্যের বাদশা-সুলতান শাসিত দেশগুলোতে পাকাপাকিভাবে অনেকগুলো ঘাঁটি গেঁড়ে নিয়েছে।
২০০১ সালে শুরু হওয়া মার্কিন-আফগান যুদ্ধ চলে ২০২১ সাল নাগাদ। যুদ্ধক্ষেত্রটি মার্কিন মুল্লুক থেকে ১১,৯০০ কিলোমিটার দূরে। যুদ্ধের আঁচ একটুও লাগেনি আমেরিকানদের গায়ে। একজন নিরীহ মার্কিন নাগরিকও মারা পড়েনি। অথচ আফগান ভূখণ্ডে মারা গেছে কমপক্ষে ১ লাখ ৭০ হাজার আফগান নাগরিক। অন্যদিকে, মার্কিন সৈন্য মাত্র ২৪৬১ জন মারা যান। এই যুদ্ধেও আমেরিকার পরাজয় নেই বরং যুদ্ধশেষে সম্মানজনক প্রস্থান হয়েছে আমেরিকার। এখানে তারা ঘাঁটি গাঁড়তে পারেনি বটে, তবে পাকিস্তানকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দিয়ে গেছে। পাক-আফগান সর্বাত্মক যুদ্ধ এখন চলমান। আর, দেড় বিলিয়ন ডলারের আফগান অর্থ আটকিয়ে দিয়েছে যুদ্ধশেষের পরপরই।
এবারের ইরানের যুদ্ধটাও আমেরিকার মূল ভূখণ্ড থেকে ১১,৫০০ কিলোমিটার দূরে প্রাচীন সভ্যতার পীঠস্থান পারস্য ভূমিতে। যুদ্ধ আরও সর্বাত্মক হলে ইরাক-আফগানিস্তান-সিরিয়ার মতোই ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হবে পৃথিবীর প্রাচীন সুপার-পাউয়ার খ্যাত ইরান। প্রাণহানি হবে প্রচুর। আর আমেরিকা হারাবে মাত্র ২/৪ হাজার মেরিন সেনা। ইরান বর্তমানে ইসরাইল এবং মুসলিম দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে ও তাদের স্থাপনা গুলোতে আক্রমণ করেছে কিন্তু এযাবত একটি মিশাইল নিয়ে যেতে পারেন নাই আমেরিকার ভূখণ্ডে। এতে অস্থিতিশীল হবে মধ্যপ্রাচ্য এবং গোটা বিশ্ব। মুখ থুবড়ে পড়বে মানবতা ও মানবিকতা। যুদ্ধের অজস্র ক্ষত নিয়ে পড়ে থাকবে ইরান। বাংলাদেশ সহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি বিশাল ধাক্কা খেয়ে টালমাটাল অবস্থায় পড়বে।
যুদ্ধ নয় শান্তি চাই।
